দু’সপ্তাহে বিশ্ববাজারে তেল ও গমের দাম বেড়েছে ৮৮ শতাংশ

যুদ্ধ শুরুর মাত্র দু’সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও গমের দাম বেড়েছে আটাশি শতাংশ পর্যন্ত। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা ছাড়িয়ে যেতে পারে সব রেকর্ড। আর বাংলাদেশ পণ্যগুলোর ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি করায় এরইমধ্যে পড়তে শুরু করেছে সেই প্রভাব।

অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়িয়েছে প্রত্যাশার মাত্রাকেও। তাই দিন যত গড়াচ্ছে যুদ্ধের উত্তাপ রূপ নিচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্যের অঘোষিত এক সংকটে।

জয় পরাজয়ের সমীকরণ এখনো বহুদূর। কিন্তু সেই দূরত্বের দোহাইয়ে মানানো যাচ্ছে না পণ্য বাজারকে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল। আগ্রাসনের পরদিনই যে তেল কেনা গেছে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারে, সেটিই ছাড়িয়েছে ১৩০ এর ঘর। অর্থাৎ দর চড়েছে ৪০ শতাংশ। আর বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে মেটায় বলে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।

সয়াবিনে নাকাল দেশবাসী। কিন্তু যুদ্ধের পর সেটিও বাড়ছে হু হু করে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেড় হাজার ডলার প্রতি টনের সয়াবিন উঠে গেঠে পৌনে দুই হাজারে। পাম ও সয়াবিন মিলিয়ে ৯০ শতাংশের আমদানি নির্ভরতা পোড়াচ্ছে ১৭ কোটি মানুষকে।

প্রায় একই অবস্থা এলএনজির বেলায়ও। খোলা বাজার থেকে ২৮ ডলারে প্রতি ইউনিট কেনার চুক্তি করা হয় সবশেষ। কিন্তু দুই সপ্তাহে ৮৮ শতাংশ দাম বেড়ে সেটি এখন প্রায় ৫২ ডলার। এখানেও বড় অংশ আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ায় দিশেহারা সরকার।

এদিকে বছরে ৭৭ লাখ টনের মতো গম লাগে দেশে। যার ৮৫ শতাংশই মেটে আমদানি করে। সেটিরও প্রধান দুই বাজারে এখন যুদ্ধের ব্যস্ততা। তাই একই সময়ে দর বেড়েছে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ ৩০৯ ডলারের গম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চারশ’র ওপরে।

ডব্লিউজি/এমএ

Leave a Reply