বসন্ত বাতাস থেকে অ্যালার্জি

ফাল্গুনের শেষে যখন রোদের তীব্রতা বাড়ছে তখন বাতাসে বয়ে বেড়াচ্ছে নতুন বিপদ ‘পোলেন অ্যালার্জি বা স্প্রিং অ্যালার্জি’। এ অ্যালার্জি রোগ নয়, রোগের কারণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হয়। শুষ্ক আবহাওয়ার এ সময়টাতে ফুলের পরাগায়নের কারণে বাতাসে পরাগরেণু উড়ে বেড়ায়, এতে নাকে-গলায় সমস্যা হয় অনেকের।

যারা অ্যালার্জিপ্রবণ এবং পরাগরেণু ও ধুলাবালুর প্রতি অতি সংবেদনশীল তারা আক্রান্ত হোন বেশি। পোলেন অ্যালার্জি বা স্প্রিং অ্যালার্জির প্রভাবে প্রথমে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ কারও কারও তীব্র হাঁচি ও সর্দি হতে পারে। চোখ লাল হয়ে চুলকাতে থাকে, জ্বরের অনুভূতিও হয়। এর নাম ‘হে-ফিভার’। এ সমস্যায় শুধু যে নাক-চোখ চুলকাবে তা কিন্তু নয়, অনেকের ত্বকও চুলকাতে থাকে। এই অ্যালার্জি যেকোনো বয়সের যে কারও হতে পারে। সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ-এপ্রিলে অ্যালার্জির প্রবণতা বাড়ে। কারণ ‘সিজন চেঞ্জ’। এই সময় বায়ুমণ্ডলে ‘পোলেন কাউন্ট’ বাড়ে। তাই যাদের অ্যালার্জির ধাত আছে, তাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণযোগ্য এই অ্যালার্জি, কিন্তু সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব নয়। মানে কমিয়ে রাখা সম্ভব। যাদের বার বার হয়, তারা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমতো অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ খেতে পারেন। প্রয়োজনে স্টেরয়েড-জাতীয় স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। তবে কখনই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত নয়। আর পরাগরেণু প্রতিরোধের জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। শরীরের প্রতিরক্ষা শক্তিকে বাড়ানোর জন্য ইমিউনোথেরাপি কাজে দেয় অনেকের।

ডব্লিউজি/এমএ

Leave a Reply